আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও উপকূলে চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আজ শনিবার (১৩ জুন) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদনে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকাদের উদ্ধারে প্রাণপণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস (ওসিডি) জানিয়েছে, ধসে যাওয়া বিভিন্ন বহুতল ভবন ও ভূমিধসের শিকার দুর্গম এলাকা থেকে আরও বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করার পর নিহতের এই নতুন পরিসংখ্যান সামনে এলো।
ফিলিপাইনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিএমএ নিউজ (GMA News)-এর খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ২২১ জন, যাদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিধসের নিচে চাপা পড়া এবং ভেঙে পড়া বড় বড় ভবনের কংক্রিটের স্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত খুঁজে বের করতে রাত-দিন উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম (Search and Rescue) চালানো হচ্ছে। তবে প্রথম দফার বড় কম্পনের পর প্রতিনিয়ত হওয়া ছোট ছোট ‘আফটারশক’ (Aftershocks), ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়া ভবন এবং ভূমিকম্পে ফেটে যাওয়া ও ধসে পড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ও তথ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (DROMIC)-এর দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিন্দানাও অঞ্চলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হঠাৎ করে সবকিছু হারিয়ে তীব্র মানবিক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাস্তুচ্যুত বা ঘরছাড়া হওয়া মানুষদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন সরকারি ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে (Evacuation Centers) অবস্থান করছেন। এছাড়া ঘরবাড়ি হারানো আরও প্রায় ৫৪ হাজার ২৭৪ জন নাগরিক সাময়িকভাবে তাঁদের বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশটির সরকারের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নে দেখা গেছে, ৭.৮ মাত্রার এই তীব্র কম্পনে ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ বা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ৩৬ youth হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মিন্দানাও উপকূলের তলদেশে আঘাত হানা এই ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির পরপরই পুরো ফিলিপাইনজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তুলে নেওয়া হলেও উপকূলীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। কম্পনের তীব্রতায় মিন্দানাও অঞ্চলের হাজার হাজার ঘরবাড়ি, নামী স্কুল-কলেজ, জরুরি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি বড় বড় অবকাঠামো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে দেশটির জেনারেল সান্তোস সিটি (General Santos City) এবং সারাঙ্গানি (Sarangani) প্রদেশ। এই দুটি অঞ্চলকে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বিপর্যস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ত্রাণ পৌঁছাতে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে এই এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে বিশেষ ‘দুর্যোগজনিত জরুরি অবস্থা’ (State of Calamity) ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |